বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার ১৯৯৬ থেকে ২০০৯

শুক্রবার, ২০ নভেম্বর, ২০০৯

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাকের সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ২১ বছর ধরে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া বন্ধ থাকে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ু্ল হত্যার বিচারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী মহিতুল ইসলাম ২০ জনকে আসামি করে ১৯৯৬ সালে ধানমন্ডি থানায় এই মামলা দায়ের করেন। বিএনপি-জামায়াত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে এই মামলার আপিল বিভাগে শুনানির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ না করায় বেশ কয়েক বছর কেটে যায়। বর্তমান সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করায় ৩৪ বছর পর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ অবশেষে এই নৃশংস হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছেন।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শুরু হয় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল রায় ঘোষণা করেন। এতে ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণের শুনানি হয় হাইকোর্টে। ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিভাগ রায় প্রদান করেন। বিচারপতি মো. রুহুল আমিন ১০ জন আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। অপর বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ১৫ জন আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।
হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চের বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করে রায় এবং তিনজনকে খালাস দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে কারাবন্দী চার আসামি মেজর (অব.) বজলুল হুদা, লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল (অব.) সৈয়দ শাহরিয়ার রশিদ খান ও মহিউদ্দিন লিভ টু আপিল করেন। আপিল বিভাগে এই আপিল শুনানি করতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ না দেওয়ায় গত আট বছরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে তা ঝুলে ছিল। এ সময় যেসব বিচারপতিকে আপিল বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয়, হাইকোর্টে মামলার শুনানি গ্রহণ করায় তাঁরা শুনানি গ্রহণ করতে পারেননি। বিচারপতিদের কেউ কেউ শুনানিতে বিব্রত বোধ করেন। এর ফলে শুনানি ঝুলে যায়।
বিগত বিএনপি-জামায়াত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে পাঁচ বছর আপিল বিভাগে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার শুনানির কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আসামিদের আপিল অনুমতির আবেদন (লিভ টু আপিল) বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এসে শুনানি হয়। কিন্তু ২০০২ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রয়োজনীয়সংখ্যক বিচারপতি না থাকায় ছয় বছরেও এ বিষয়ে শুনানি হয়নি। ২০০৭ সালের ২ আগস্ট প্রধান বিচারপতি মো. রুহুল আমিন আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. তাফাজ্জল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। এ বছরেরই ২৩ সেপ্টেম্বর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির আপিল অনুমতির আবেদন মঞ্জুর করা হয়। আদালত এ বছরের ৩০ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দিয়ে নিয়মিত আপিল করতে আসামিপক্ষকে নির্দেশ দেন। আসামিপক্ষ যথাসময়ে মামলার শুনানি করতে যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন, আপিল বিভাগে তা জমা দেন। রাষ্ট্রপক্ষ এরপর দেড় বছর অতিক্রান্ত হলেও আপিল শুনানির উদ্যোগ না নেওয়ায় শুনানি হয়নি।
গত জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর আপিল বিভাগের বিচারক সংকট দূর করতে ১৪ জুলাই চারজন বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আট মাস পর গত আগস্ট মাসে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আপিল শুনানির এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
গত ২৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী আনিসুল হক আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দেন। পরদিন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার জজ ৫ অক্টোবর আপিল শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন।
প্রধান বিচারপতি এম এম রুহুল আমিন ৪ অক্টোবর আপিল বিভাগের বিচারপতি তাফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির সমন্বয়ে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। এরপর আপিল শুনানি শুরু হয়। টানা ২৯ কার্যদিবস আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন আপিল বিভাগ।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক সামরিক অভ্যুত্থানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। এরপর খন্দকার মোশতাকের সরকার ক্ষমতা গ্রহণ ও ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ বন্ধ করে দেয়। পরে জিয়াউর রহমানের সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশটি জাতীয় সংসদে পাস করে। এর ফলে ২১ বছর ধরে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া বন্ধ থাকে। একই সঙ্গে কারাগারে জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ডের বিচারও বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু সরকারের তত্কালীন মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাতসহ আট হত্যা এবং কামানের গোলায় মোহাম্মদপুরের শের শাহসুরী রোডের ১৪ জনকে হত্যার বিচার কার্যক্রম।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামির মধ্যে কারাগারে আটক চার আসামি কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান, কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মুহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি), মেজর (অব.) বজলুল হুদা আপিল অনুমতির আবেদন (লিভ টু আপিল) করেন। ২০০৭ সালে সাজাপ্রাপ্ত আরেক আসামি এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদকে (ল্যান্সার) যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত আনার পর তিনিও জেল থেকে আপিল করেন, যা লিভ টু আপিল হিসেবে গণ্য হয়। এদের লিভ টু আপিল মঞ্জুর হওয়ার পর নিয়মিত আপিল করা হয়। অন্য আসামিদের মধ্যে খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এ এম রাশেদ চৌধুরী, এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী, আবদুল মাজেদ ও মোসলেমউদ্দিন পলাতক রয়েছেন। আবদুল আজিজ পাশা মারা গেছেন। পলাতক আসামিরা গ্রেপ্তার হলে বা আত্মসমর্পণ করলে তাঁদের ওপর এ রায় কার্যকর হবে।

সংরক্ষণাগার

লিংক

বাংলা দৈনিক

বিএন হেডলাইনস
সংবাদ শিরোনাম
বাসস
শীর্ষ নিউজ
পিটিবি নিউজ
সংবাদ প্রতিদিন
বর্তমান
বিডি নিউজ ২৪
প্রথম আলো
কালের কণ্ঠ
সংবাদ
ইত্তেফাক
আমাদের প্রতিদিন
বাংলাদেশ প্রতিদিন
ভোরের ডাক
সুপ্রভাত বাংলাদেশ
খুলনা নিউজ
ঝালকাঠি ওয়েব
নোয়াখালী ওয়েভ
রংপুর ডট কম
ডেইলি রংপুর
কক্সবাজার নিউজ
আনন্দবাজার পত্রিকা
দেশ টিভি
বিবিসি
ভিওএ
ডয়চে ভেলে
ইউকে বিডি নিউজ

English Daily

Daily Star
New Age
Bangladesh Sun
Narinjara News
Mizzima News

বাংলা সাপ্তাহিক

সাপ্তাহিক বুধবার
সাপ্তাহিক কাগজ
সাপ্তাহিক ২০০০
নতুন দেশ

বাংলা ব্লগ

বিপ্রতীপ
প্রথম আলো ব্লগ
সামহয়্যারইন ব্লগ
আমার ব্লগ
টেকটিউনস
স্বপ্নযাত্রা
সচলায়তন
মুক্তাঙ্গন
মুক্তমনা
মুক্তব্লগ
শব্দনীড়
আদিবাসীদের বাংলা ব্লগ
চতুর্মাত্রিক
সোনার বাংলাদেশ ব্লগ

শিক্ষা বিভাগ

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফ্তর
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফ্তর
শিক্ষা মন্ত্রণালয়
শিক্ষা বোর্ড ফলাফল
এনসিটিবি
শিক্ষক এমপিও

বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়

বিবিধ

উইকিপিডিয়া
৬৪ জেলা
পিএসসি
সরকারি ফরম
র‌্যাব
পঞ্জিকা ও অন্যান্য
বাংলা গান
গান নামানো
ম্যাক্সিমাম ওয়েবসাইট
বিডি লিংক পয়েন্ট
একটি বাংলাদেশ
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড
বিজয় পরিবর্তন
ইউনিকোড পরিবর্তন